কবিতা - গোধূলি আল্পনা


সুবর্ণ রেখা



সুবর্ণ রেখা - এ নামে একটা গ্রাম ছিল;সে গ্রামটার একপাশে ছিল প্রমত্তা মেঘনা
আর অন্য পাশে আছড়ে পড়ত সমুদ্রের ঢেউ।
সে গাঁয়ে ছিল আমার শৈশব, ছিল আরও কেউ।
দুরন্ত বর্ষায় চারপাশ যখন প্রমত্তা যৌবনে দিশেহারা,একা সুবর্ণ রেখা আমি এবং আমাদের দিত পাহারা।
আগলে রাখত বুকে, যদিও প্রতিদিন ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ে যাচ্ছিল সে,শৈশব পেরিয়ে কৈশরে এক্কেবারে হারিয়েই গ্যালো অবশেষে।

সুবর্ণ রেখা নামে আমার একটা মায়াবতী নদী ছিল।
নদীটার চোখ দু'টো ছিল দীঘির জলের মত শান্ত শীতল;কৈশরের সদ্য গোঁফ গজানো মুখ দেখে খিক খিক করে করে হাসত
সদ্য জোয়ান হাঁসের মত হেঁড়ে গলায় ধমক লাগালে বিনুনি দুলিয়ে ছুটে পালাত
এক প্রলয়ংকরী সিডরে চারপাশ যখন লন্ডভন্ড, টিনের চালের সাথে কোথায় যেন উড়ে গ্যালো তারা।

সুবর্ণ রেখা নামে বুকের ভেতর একটা ভালবাসা ছিল
প্রতি রাতে ক্লান্ত হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলে আমার বুকে হাত বুলিয়ে দিত
যখন জীবনের দুঃসহ মূহুর্ত গুলো ভরে উঠত অপ্রাপ্তির বিষে
কোমল গলায় শুধাত, চান করবে আমার জলে?অদক্ষ সুবোধ বালকের মত তলিয়ে যেতে থাকতাম তার অতল জলে।
তাও বুঝি সইলনা কারো।
একদিন ঈশ্বর বললে, বালক এ জন্মে এত সুখ পেতে নেই,কিছু রেখে দিতে হয় আর জন্মের জন্যে।
এখন আমার আর কিছুই নেই
আছে শুধু দু'টি শব্দ- "সুবর্ণ রেখা"।


২টি মন্তব্য:

  1. গোধূলি দাদা তোমার লেখায় মাটির একটা ঘ্রাণ পাই। যতবার তোমার লেখা পড়ি ততবার আমার নিজ গ্রামের কথা মনে পড়ে। এই কবিতায় সুবর্ণ রেখা গ্রামটিকে নিজের গ্রাম মনে হচ্ছে যেমনটা মেঘনাকে আমার নিজের নদী।

    উত্তরমুছুন