অশ্রু ও বৃষ্টিগাঁথা
তাহমিনা শবনম হক
.................................
| বৃষ্টি নামার আগে বসেছিল ওরা |
| ভূমির সমান্তরাল এক গাছের ডালে- |
| দু’জন মধ্য তিরিশের পোড় খাওয়া মানুষ । |
| পাশে হ্রদের জলে অগাষ্টের অভ্রকুচি রোদ। |
| বছর দশেক পরে দেখা, |
| দশ বছর...কত কিছু...কত সময়... |
| যখন এসেছিল সময়,জানতো না ওরা |
| কে কার কতটা । |
| এখনো জানেনা এই জীবনে সারবে কি আর অ-প্রেমের ক্ষত। |
| লুকিয়ে প্রেমহীন অতীত ,তারা এমন গল্প করছিলো |
| যেনবা কেটেছে মাত্র দুদিন । |
| যেন এটা সেই সদ্য যুবক বেলা। |
| যেখানে আছে এক নৈকট্যময় দুরত্ব । |
| মেয়েটির চোখের তারায় যন্ত্রনাময় অতীতের ছবি। |
| ছেলেটির ভ্রু’র মাঝে বিপন্নতার ভাঁজ । |
| কথকতায় একবারও উচ্চারিত হয়না ভালবাসার কথা। |
| শুধু শব্দ আর দৃষ্টি দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছিলো |
| আর কোন কষ্ট পেতে দেবে নাকেউ কাউকে । |
| এমন সময়ে হুড়মুড় করে এলো বৃষ্টি- |
| বুলেটের মত অবিশ্রান্ত । |
| না কোন নোটিশ,না কোন শীতল হাওয়ার অগ্রদূত। |
| যেন পশ্চিমা সৈন্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে নেমেছে |
| ঝাঁকে ঝাঁকে ইরাকের অবোধ মরুতে । |
| বৃষ্টির ছাটে,টালমাটাল হাওয়ায় দিশেহারা দুজন । |
| ছেলেটি লাফিয়ে নামল,দু’হাত বাড়িয়ে বলল,-এসো । |
| এসো-আহা কী মধুর সে ডাক। |
| যেন সপ্তম সিম্ফনি এসে পড়লো শ্রুতিতে |
| যেন এই মাত্র অন্তরীক্ষে জন্ম নিলো একশ নক্ষত্র... |
| মেয়েটি অগ্রপশ্চাৎ না ভেবেই |
| যাপিত জীবনের সব ভুলে |
| ঝাপিয়ে এলো ছেলেটির বুকে। |
| অশ্রু আর বৃষ্টি-বিন্দু মিলেমিশে |
| সাজালো মেয়েটির মুখ...কাঁপছে সে- |
| যেন এক শীতার্ত মুনিয়া। |
| আজন্ম তৃষ্ণার্ত দুজন পান করল |
| অশ্রু, বৃষ্টি এবং ওষ্ঠ। |
| সেই থেকে অশ্রু ও বৃষ্টির এই মিশে যাওয়ার নাম |
| দিলো ওরা প্রেম । |
দুইবার কেন ?
উত্তরমুছুনদুইবার কেন ?
উত্তরমুছুনঅসম্ভব সুন্দর কবিতাটা। দারুণ লাগলো।
উত্তরমুছুন