কবিতা - শুভ বাবর


আজ কোন নিষেধাজ্ঞা নেই
শুভ বাবর
....................................................


ষোল কলা পূর্ণ হলে একটা কবিতা রেখো আমার জন্যে
অযত্নের বেড়ে ওঠা অভিমানী আয়না ,নাগরিক বর্ণনায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে
ফিরে না দেখা শর্তহীন নিঃসঙ্গ
উচ্চারণগুলো গভীর আওয়াজ তুলেছে নির্দয় বুকে
আমার আদিম লুকানো কোনো অজ্ঞাত নিবাস নেই ,
নেই সংসারহীন জীবনে নবজাতক ধারাপাতের চালচূলা ৷

কুত্‍সিত ক্লান্ত দিনের আলোটুকু চুরি করে শেষে নেমেছিল বাক্স বন্দী সন্ধ্যা
এখন আর কোন নিসিদ্ধ যুদ্ধ নেই ;আছে বিদ্রোহী কষ্টের আগুন চাপা কলঙ্ক
একলা চাতক জ্বালা শিরদাঁড়ায় নেই ;কোমলতা নেই মন বীণার সুর তরঙ্গে ,
বুকের জামার নিভৃত আত্মকথায়
পরমশূন্য অগ্নিগিরি জ্বলে ক্রোধের ইতিহাস ,
বর্ণান্ধ মনের খঞ্জরে কলুষে ভুল বিষে আচ্ছন্ন ক্যানভাস
যতদূর চোখ যায়
সুখের চেয়ে বেশি দুঃখময় মিথ্যো প্রসূত রাতের অন্ধকার ৷

আমার আজন্ম লালিত আলোর গভীরে জল কাতর শরীরে হাস্যকর অতীত
কথা ছিলো অন্যরকম অসম্পূর্ণ স্পর্শ যন্ত্রণাও সহ্য করবে ভেজা মাটি
তবুও আমার জনক জননীও কথা রাখেনি ,ঘুম ঘুম খালি চোখে প্রলাপ বকেছে
অনেক গুলো কঠিন শর্তে ক্ষয়ে গেছে আঙুল
আমার পথভ্রষ্ট নষ্ট সমীকরনের উৎসবের বার্তায় ,আজ কোন নিষেধাজ্ঞা নেই ৷

অচেতনাময় বাতাসে বুকের মধ্যে নাবালক শুদ্ধতার খেয়ালি রক্তের জল
কোমড়ের ঝোপের আড়ালে নাচে উড়নচণ্ডী প্রেম ;জুবুথুবু উড্ডীয়মান কাম
আজ আমার আপন অতীতের ঘরে স্বপ্নময় চেনা অদিস্টের দূর্দিন
ভীষণ সর্পচূড়ায় আগুনে লাফিয়ে পড়ে দেহ ,দু'ফোঁটা জলের ভাঁজে নিজস্ব আঁধার
সুগন্ধী জিহ্বার লজ্জাহীন নগ্নতার ফাঁদে ,চিতা শরীর নড়াচড়া করে সংগোপনে

ঘোলাটে অন্তরের বাঁকে বাঁকে চেতনার দ্বৈরথের সমগ্র রন্দ্রে
সন্তান উৎপাদনের নিশ্চিন্ত নির্ভাবনার কৌশল জানা আছে
ভীত কম্পনের শব্দের গোচরে সঙ্গম হারানো চিবুক ;
সামান্য শরীর ছায়া লুকানো চুম্বনে বিষ খাওয়া অনাহারি সরল বিশ্বাসের ঠোঁট
গর্তে লুকিয়ে থাকা বন্যতা মুখ গুজে হাসে ;মধ্যরাতের খুনী হয়ে
তীক্ষ্ম নখে আচঁড় কেটে যাই ,গরম নিঃশ্বাসের কামনার ঝড় নিস্তব্ধ হাতের মুঠোয়
এখন আর একপেশে অভিব্যক্তি ফুঁসে উঠেনা , এই সীমানা ভাঙ্গার নিঃস্ব উৎসবে
যেখানে ব্যক্তিগত শব্দ অলঙ্কারে তুমি আর আমি কেউ কাউকে চিনি না
পবিত্র শান্তির মনে ক্লান্তি কোমড়রে বাধে বিশ্বাসী চাবির গোছা
অসভ্য জৈবিক অহমের প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় আমি আমাকে পাল্টে ফেলতে বাধ্য হয়েছি ৷

 

৩টি মন্তব্য:

  1. বেশ বেশ! শেষটা এতো চমৎকার যে বারবার পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে লেখাটা। শুভকামনা রইল।

    উত্তরমুছুন
  2. ষোলকলা পূর্ণ হলে একটা কবিতা রেখো আমার জন্যে... কবির আকুতি ছড়িয়ে পড়ে পাঠক মনে।

    ধীরে ধীরে বাস্তবের আবরনে কবি অড়াল করতে চেয়েছেন নিজেকে... কিন্তু পাঠক?! এখানেই কবি যেন আস্থার জায়গা পাচ্ছেন......

    উত্তরমুছুন